বিশ্বের বৃহত্তম রফতানিকারক দেশটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য প্রবাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর এফটি।
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং জায়ান্ট মায়ের্স্ক ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানির (এমএসসি) কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনার বসে। বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোম্পানি দুটির আন্তর্জাতিক শিপিং কার্যক্রম নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থাও সম্প্রতি দুই কোম্পানি সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় শিপিং কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটে অতিরিক্ত চার্জ বসাচ্ছে, পণ্য পরিবহন ভাড়া (ফ্রেইট রেট) বাড়াচ্ছে এবং কিছু রুটে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। কাস্টমস ডাটা অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই চীন এ অঞ্চলে ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস ও গাড়ি। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় চীনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। গত বছর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় দ্বিগুণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মায়ের্স্ক ও এমএসসি উভয়ই নিজেদের পরিচালন ব্যয় বাড়ার কথা জানিয়েছে। মায়ের্স্ক এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বন্দরে নতুন পণ্য পরিবহনের বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। পাশাপাশি জাহাজকে অন্য রুটে ঘুরিয়ে নেয়া ও পণ্য সাময়িকভাবে গুদামে রাখার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে কোম্পানিটি ‘ইমার্জেন্সি ফি’ বা জরুরি অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করেছে।
অন্যদিকে এমএসসি জরুরি জ্বালানি সারচার্জ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ জ্বালানির বাড়তি খরচ সামাল দিতে তারা অতিরিক্ত একটি চার্জ আরোপ করেছে। এছাড়া কোম্পানিটি এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু দেশে পণ্য পরিবহনের ভাড়া সাময়িকভাবে বাড়িয়েছে।